হজরত আদম আঃ এর জন্মের পরপরই কেন বিড়াল সৃষ্টি করা হয়েছিলো

মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা:)। হযরত সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশী স্পষ্টভাষী ও উচ্চাঙ্গের ভাষা সাহিত্যিক। একজন সুবক্তা হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল সর্বত্র। জ্ঞান-প্রজ্ঞা, বীরত্ব-বাহাদুরী ও বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলেন,
আমি হলাম জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা।
তার খ্যাতি ছিল দেশ-বিদেশে। যে একবার তাঁর কথা শুনত সেই মুগ্ধ হয়ে যেত। ভাবত, এত বিশাল জ্ঞান ভান্ডার কিভাবে তিনি অর্জন করলেন? এত জ্ঞানের কথা কে শেখাল তাকে?
কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান নয়। যাদের হৃদয়টা হিংসার কালিমায় আচ্ছাদিত, যারা অপরের ভাল দেখতে পারে না, তারা আলী (রা:) এর এই সুনাম সহ্য করতে পারত না। তারা কৌতুক করে বলত, আলী আবার পন্ডিত হল কবে থেকে? সে তো গোটা জীবন মুহাম্মদের পিছনে ঘুরে বেরিয়েছে। মাঠে-ময়দানে যুদ্ধ করেছে। বড় জোড় সে একজন নামকরা যোদ্ধা হতে পারে। কিন্তু পন্ডিত হবে কি করে?
একদিন কয়েকজন হিংসুটে একত্রিত হল। পরামর্শ করল তারা। সিদ্ধান্ত নিল, আলীর পান্ডিত্যের পরীক্ষা আজই নিতে হবে। কিন্তু কিভাবে? আলোচনার মাধ্যমে তাও ঠিক হল –
তারা সবাই একত্রে আলী (রা.) এর দরবারে উপস্থিত হবে। নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী তাকে প্রশ্ন করবে। যদি তিনি প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেন তবে তো ভালই। আর যদি না পারেন, তাহলে বুঝা যাবে, তার জ্ঞানী হবার কথা সঠিক নয়। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও গুজব মাত্র।
যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। শীর্ষস্থানীয় দশ পন্ডিত হযরত আলী (রা:) এর দরবারে উপস্থিত। দলনেতা সকলের সামনে। বাকীরা পিছনে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে। কক্ষে বিরাজ করছে এক অসীম নিরবতা।
এক সময় দলনেতাই নিরবতা ভাঙ্গল। বলল…
⚖️ আমীরুল মুমেনীন! শুনেছি, আপনি একজন মহাপন্ডিত। অনেক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী। তাই বহু পথ অতিক্রম করে অনেক কষ্ট স্বীকার করে আমরা আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। আশা করি আপনার প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্যে আমাদের জ্ঞান তৃষ্ণা নিবৃত্ত হবে।
🧠 আমি মহাপন্ডিত নই। তবে আপনাদের বক্তব্য খুলে বলুন। শান্ত কন্ঠে আলী (রা.) বললেন।
❓ অনুমতি পেলে আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই।
এ সামান্য ব্যাপারে অনুমতি কি প্রয়োজন। বলুন, কি প্রশ্ন আপনাদের।
❓ আমাদের প্রশ্ন হল, সম্পদ এবং জ্ঞান এ দুটির মধ্যে কোনটি উত্তম এবং কেন?
💡 ও সে কথা। শুনুন তাহলে …….
হযরত আলী (রা.) কথা শেষ করতে পারলেন না। দলনেতা বাধা দিয়ে বলল, জনাব এ প্রশ্নের কেবল একটি জবাব দিলে চলবে না। আমরা মানুষ দশজন। সুতরাং প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক জবাব দিয়ে জবাবের সংখ্যা অবশ্যই দশে পৌঁছাতে হবে।
দলনেতার কথা শুনে হযরত আলী (রা.) কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। ভাবলেন, একটি প্রশ্নের দশটি উত্তর দিতে হবে কেন? তবে কি তারা বিশেষ কোন উদ্দেশ্য বা দুরভিসন্ধি নিয়ে এখানে এসেছে? নাকি আমাকে পরীক্ষা করতে এসেছে? সে যাই হোক, প্রশ্ন যেহেতু করেছে সেহতু তার জবাব দেয়াই উত্তম। তিনি বললেন, আমি দশজনের জন্য দশটি জবাবই দিচ্ছি। আপনারা মনযোগের সাথে শুনুন।
উপস্থিত সকলেই এক দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে আছে হযরত আলী (রা.) এর মুখপানে। জবাব শুনার জন্য সকলেই উদগ্রীব। কারো মুখে কোন কথা নেই। গোটা কক্ষ তখন নিরব।
খানিক পর। হযরত আলী (রা.) একটু নড়েচড়ে বসলেন। শুরু হল তার জবাবের পালা। সকলের বিস্ময় বিমুগ্ধ দৃষ্টি তারই প্রতি নিবদ্ধ। তিনি বললেন–
অনেক কারণেই জ্ঞান ধনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে আপনারা দশ জনের জন্য আমি দশটি কারণই বলছি:
১. জগতের শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হল নবী রাসূলগণ। আর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ ও মহামনীষীদের বিবেচনায় যা শ্রেষ্ঠ তা বাস্তবিকই শ্রেষ্ঠ হতে বাধ্য। নবী-রাসূলগণ জ্ঞান অর্জনের উপর জোর দিয়েছেন, সম্পদ অর্জনের উপর নয়। পক্ষান্তরে সম্পদ উপার্জনের ব্যাপারে সর্বাধিক উৎসাহিত করেছে ফেরাউন ও নমরুদের ন্যায় অভিশপ্ত লোকেরা। তারাই সম্পদের জয়গান গেয়েছে মৃত্যু পর্যন্ত। সে কারণেই সম্পদ অপেক্ষা বিদ্যা শ্রেষ্ঠ।
২. সম্পদ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু জ্ঞান পাহারা দিয়ে রাখতে হয় না। এমনকি আল্লাহ চাহেতো উহা মানুষকে নানাভাবে দান করতে পারেন।
৩. সম্পদ উপার্জনের মাধ্যমে মানুষ পাপী হতে পারে। কিন্তু জ্ঞান আয়ত্ত করলে মানুষ পুণ্যবান হয়।
0 Comments